শনিবার

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে পরিবর্তনের জল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৫

শেয়ার

বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে পরিবর্তনের জল্পনা
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আগামী ঈদুল আজহা-র পর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি।

দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর এবার সপ্তম কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজন আগের তুলনায় বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়।

দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী খালেদা জিয়া-র মৃত্যুর পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। তিনি এর আগে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে ২০১৬ সালের কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো একই পদে দায়িত্বে রয়েছেন।

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ সব শীর্ষ পদে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এ কারণে বর্তমান নেতৃত্ব বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, বিদ্যমান চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সব পদে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।

স্থায়ী কমিটির একাধিক শূন্য পদ পূরণের বিষয়টিও এবারের কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় পর্যায়ে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন, জয়নুল আবেদীন ফারুক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন নবী খান সোহেল। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ ১৪ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। ২০১৬ সালের আগে এই সংখ্যা ১৯টি নির্ধারিত থাকলেও বিভিন্ন কারণে পূর্ণসংখ্যা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এবারের কাউন্সিলকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই কাউন্সিলের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দলটি এখন পর্যন্ত ছয়টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজন করেছে। প্রথম কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে আসেন আব্দুস সাত্তার ও খালেদা জিয়া।

দলীয় নেতাদের মতে, আসন্ন কাউন্সিল সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতৃত্বের নবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন এবং শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে।



banner close
banner close