শুক্রবার

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৪ বছর: তদন্ত দ্রুত শেষের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৬

শেয়ার

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৪ বছর: তদন্ত দ্রুত শেষের আশ্বাস
ছবি সংগৃহীত

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এটি একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন।

উল্লেখ্য, এম ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকায় নিজ বাসার কাছ থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি সিলেট-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এরপর পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু হয়।

গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, তদন্তে উঠে এসেছে—গুমের পর ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে।

বর্তমান তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদের নাম তদন্তে এসেছে এবং আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নির্দেশে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপহরণের রাতেই রাজধানীর একটি হোটেল এলাকা থেকে তাকে অনুসরণ করা হয় এবং বাসার পাশ থেকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন সাবেক সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে।

ইলিয়াস আলীসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গুমের ঘটনায় সে সময় সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ জানায়। তবে তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দেয়।



banner close
banner close