মঙ্গলবার

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

ইশতেহার বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে নৈতিক অধিকার হারাবে বিএনপি: চরমোনাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১২

শেয়ার

ইশতেহার বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে নৈতিক অধিকার হারাবে বিএনপি: চরমোনাই
ছবি সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং কওমি মাদরাসা সংক্রান্ত ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শায়েখে চরমোনাই বলেন, ইশতেহার একটি রাজনৈতিক দলের জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতি। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই ভোট দেয়। কোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়ন না করলে তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি থাকে না। বিএনপিকে তাদের কওমি মাদরাসা-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি হলে তা জাতির সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কওমি শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এ মান দিয়ে শিক্ষার্থীরা ইমামতি বা সরকারি চাকরিতে যথাযথ সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান এবং এ বিষয়ে আন্দোলন ও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলেন।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনাগ্রহী। তিনি দাবি আদায়ে সরকারকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান।

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি। প্রয়োজনে এ দাবিতে আন্দোলনেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বহু বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে দেশ উপকৃত হবে।

মুফতী রেজাউল করীম আবরারের সঞ্চালনায় সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close