শনিবার

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

সাবেক যুবদল নেতার চাঁদাবাজির শিকার মানবিক চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫০

শেয়ার

সাবেক যুবদল নেতার চাঁদাবাজির শিকার মানবিক চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম
ছবি সংগৃহীত

বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তার পরিচালিত হাসপাতালে স্থানীয় এক সাবেক যুবদল নেতার নেতৃত্বে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ডা. কামরুল ইসলাম ঢাকার শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতাল। দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার সফল অস্ত্রোপচারের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে একটি চক্র গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে হাসপাতালটিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি শুরু করে। ডা. কামরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুলাই-আগস্টের পর থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। এদিকে একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত একজনকে ধমক দিচ্ছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সহযোগী হিসেবে মাঈনুদ্দিন নামের আরও একজনের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডা. কামরুল ইসলাম দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছেও একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।



banner close
banner close