মঙ্গলবার

৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩ চৈত্র, ১৪৩২

সংস্কার থেকে পেছালে ফের অভ্যুত্থান: হাসনাতের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:০১

শেয়ার

সংস্কার থেকে পেছালে ফের অভ্যুত্থান: হাসনাতের হুঁশিয়ারি
ছবি সংগৃহীত

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনও ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই হয়েছিল বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রয়োজনীয় সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি শুরু করা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের বিডিএল ভবনে ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ আয়োজিত নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ-প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত, সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক এই সংলাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।,

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাসিনা কোনও একক ব্যক্তি নয়, বরং অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি। যদি বিদ্যমান সিস্টেম বা ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনও ব্যক্তিই পরবর্তীতে পুনরায় ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারে। তাই রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ কার্যকর না হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি যথাযথভাবে কার্যকর না হলে তদন্তের দায়ভার পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পুলিশের হাতেই থাকবে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। গুম হওয়া পরিবারগুলোর যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হবে না।

ভয়েস অব রিফর্মের উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় সংলাপে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার আহ্বান জানান তিনি।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি)। চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।



banner close
banner close