জাতীয় সংসদে গুম সংক্রান্ত আইন বাতিলের সুপারিশ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। তিনি বলেন, গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা থাকতেই কীভাবে এ ধরনের আইন বাতিলের পরামর্শ দেওয়া হয়, তা বোধগম্য নয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ বক্তব্য দেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বিশেষ কমিটি কীভাবে গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের সুপারিশ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কমিটির সদস্যদের মধ্যেই গুমের শিকার ব্যক্তি রয়েছেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও নির্যাতনের শিকার ছিলেন—এ অবস্থায় এ ধরনের সুপারিশ বিস্ময়কর।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসেছি, যেখানে আমার মতো আরও অনেককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সবাই ফিরে আসতে পারেনি।” তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় তারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন এবং মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন।
আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিরা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। বাইরে দিন না রাত—তা বোঝার উপায় ছিল না, এমনকি জীবন্ত কবরের মতো পরিস্থিতিতে থাকতে হয়েছে।
গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রণীত আইন বাতিল না করে বরং তা কার্যকর করা প্রয়োজন।
তিনি প্রস্তাব দেন, সরকার চাইলে আইনটি আগে অনুমোদন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করতে পারে, পরে সংশোধনী আনা যেতে পারে। অন্যথায় আইনটি বাতিল হলে গুমের কোনো আইনি সংজ্ঞাই থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:








