রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিজ খরচে চিকিৎসা চেয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দাখিল করা আবেদনটি পড়ে দেখার জন্য আগামীকাল বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ দাখিল করা প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার এ আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বয়স্ক এই আসামি লিভার ক্যান্সার ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তার পক্ষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত এই হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, তাঁর চিকিৎসক পুত্র যাতে হাসপাতালে সেবার সময় উপস্থিত থাকতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত যাতায়াতের অনুমতিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী সিফাত মাহমুদ জানান, ২০১৭ সাল থেকে কামরুল ইসলাম গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে ক্যান্সারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ডিমেনশিয়ার কারণে স্মৃতিশক্তি ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারাগারে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে এই আবেদন করা হয়েছে।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, গতকাল আসামিপক্ষের আইনজীবী অসুস্থতার বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন। আজ উন্নত চিকিৎসার জন্য আনীত দরখাস্তটি কার্যতালিকায় না থাকায় আগামীকাল শুনানির দিন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দরখাস্ত পর্যালোচনা করে দেখা হবে প্রকৃত অর্থে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না। যদি প্রয়োজন হয়, তবে মানবিক কারণে তিনি চিকিৎসা পেতে পারেন।
প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করেও আদেশ পাওয়া যায়নি, কিন্তু সেই অমানবিক কাজ তারা করতে চান না। বিচার যথাযথভাবে চলবে এবং কোনো আসামির সত্যিকার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি যেন তা পান, সে বিষয়ে তারা ট্রাইব্যুনালকে বলবেন।
আরও পড়ুন:








