সোমবার

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

বগুড়ায় বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালককে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:২১

শেয়ার

বগুড়ায় বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালককে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোচালককে মারধর, মোবাইল ছিনতাই ও অটো ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খরনা ইউনিয়নের বীরগ্রাম মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মোঃ সজল হোসেন (২৮) ২৯ মার্চ দুপুর দুপুর ২টার দিকে চকভালী ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সড়কে অটো নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে আটক করে। এ সময় বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান কাজলের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে অটোসহ কাজলের বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। পরে সেখানে নিয়ে দলবদ্ধভাবে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে তার অটো ও মোবাইল ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভুক্তভোগী সজল হোসেন জানান, তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এক পা দিয়ে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার সময় তিনি মোবাইলে কথা বলছিলেন। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে অভিযুক্তরা বলে, তিনি নাকি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে ‘এসিল্যান্ড’ ডেকে এনেছেন—এই অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান কাজল খরনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলে জানা গেছে এবং তার ছেলে মেহেদী হাসানও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। খরনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান কাজলের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযুক্তির সম্পন্ন মিথ্যা। আমার ছেলের সাথে সজলের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা হয়েছে এমন খবর আমি শুনেছি। তবে ওখানে মারপিট ভাঙচুরের কোন ঘটনাই ঘটেনি। এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জের আশিক ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close