শনিবার

২৮ মার্চ, ২০২৬ ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

হাসিনা আমলের হেলমেট বাহিনীই এখনকার গুপ্ত বাহিনী: ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬ ২১:৪১

শেয়ার

হাসিনা আমলের হেলমেট বাহিনীই এখনকার গুপ্ত বাহিনী: ভূমিমন্ত্রী মিনু
ছবি বাংলা এডিশন

ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো সেই ‘হেলমেট বাহিনী’ এখন ‘গুপ্ত বাহিনীতে’ রূপান্তর হয়েছে। তারাই বর্তমানে দেশে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। শুক্রবার দুপুরে রাজশাহীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিনু অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর সেই হেলমেট বাহিনীর সদস্যরা এখন গুপ্ত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে তাদের হাত রয়েছে। তিনি বলেন, "স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। আমাদের ঘোষণা সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা কোনো ‘প্রভু’ নয়, বরং ‘বন্ধুত্বে’ বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই আমাদের মূল শক্তি।"

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো মন্ত্রী, এমপি বা মেয়রের দল নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে কর্মীদের দল। কর্মীরাই এই দলের প্রাণশক্তি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি প্রসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, "ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক খাস জায়গা রয়েছে। আমরা চাইলে সেসব দখল করে অফিস করতে পারতাম। কিন্তু বিএনপি দখলবাজিতে বিশ্বাস করে না। আমরা দলের মহাসচিবের নামে জায়গা কিনে বৈধভাবে স্থায়ী অফিস নির্মাণ করব।"

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের সভাপতিত্বতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু। জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন প্রমূখ্য। আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস স্মরণ করি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ যে সকল বীর শহীদদের, আত্মত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করি। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। তাদেরকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এই মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি দেশের মানুষের মনে স্বাধীনতার প্রত্যয় জাগ্রত করেছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৩০ লক্ষ শহীদদের জীবনের বিনিময়ে এই সোনার বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। মহান স্বাধীনতাকে কলুষিত হতে দেওয়া যাবে না। বর্তমানে স্বাধীনতা বিরোধী একটি দল যারা স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, সে সময় শেখ মুজিবুর তাদেরকে নিসিদ্ধ করে ছিল। স্বাধীনতা বিরোধীরা আবার বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। স্বাধীনতা অর্জনে যারা বিরোধিতা করেছে, তারা জাতির কাছে আজীবন ঘৃণিত থাকবে। ৩৬ জুলাই যাদের আত্মা তাদের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। স্বাধীনতা অর্জনের চাইতে স্বাধীনতা রক্ষা করা বড় কঠিন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্টেদের কোন কর্মী বিএনপি'র হাত ধরে, যেন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। মহান ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে চাই। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে লাখো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনই একমাত্র প্রত্যাশা।



banner close
banner close