বৃহস্পতিবার

২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২ চৈত্র, ১৪৩২

জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৮:০৫

শেয়ার

জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি
ছবি সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের একটি অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নাটুদাহ ইউনিয়নে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলেও পরে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী নাটুদাহ হাইস্কুলের এক ধর্মীয় শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

ঘটনার এক পর্যায়ে নাটুদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শামসুজ্জোহা এবং স্থানীয় বিএনপি সভাপতির ভাই শামসুলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন হস্তক্ষেপ করেন। পরে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণাসহ তার জীবনী তুলে ধরা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী ও সেক্রেটারি মো. টিটন বলেন, তারা শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছেন এবং কোনো সংঘাত চাননি। তাদের মতে, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি দুঃখজনক।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু অভিযোগ করেন, সরকারি এ আয়োজনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। তার দাবি, অনুরোধের পরও উপস্থাপক স্বাধীনতার ঘোষকের নাম এড়িয়ে যান, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের যথাযথ আমন্ত্রণ ও সম্মান দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুল্লাহ রহমান সাহেল বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে মূলত পতাকা উত্তোলন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণার বিষয় ছিল না। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।



banner close
banner close