ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি ঈদযাত্রায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন।
শনিবার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, আগামী তিন দিনে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবেন, যা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও সার্বক্ষণিক ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
টার্মিনালের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং তফসিল বিপর্যয়ের মতো বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়েরও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যাত্রীর চাপ মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
যাত্রীদের ভোগান্তি ও অনিয়ম রোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, টার্মিনালগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং মনিটরিং টিমের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা ৯ থেকে বাড়িয়ে ২৪টি করা হয়েছে এবং হাইওয়ে পুলিশের টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।
যানজট নিরসন ও ইফতারের সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন মহাসড়কের যানজটপ্রবণ এলাকা ও সেতুর কাছে ইফতার সামগ্রী রাখার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মহাসড়কের নির্মাণাধীন এলাকা থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঈদযাত্রার সুবিধার্থে আগামী ১২ দিন দেশের সব পেট্রোল পাম্প খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার তথ্য দিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসংগতি চোখে পড়লে তা সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আরও পড়ুন:








