মঙ্গলবার

১০ মার্চ, ২০২৬ ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

জনগণের সঙ্গে চাতুরি করলে আ. লীগের মতোই পরিণতি হবে: আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৮

শেয়ার

জনগণের সঙ্গে চাতুরি করলে আ. লীগের মতোই পরিণতি হবে: আখতার
ছবি: সংগৃহীত

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ লঙ্ঘন করে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আইনি ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের।

তিনি বলেন, ভোটের আগে এক; পরে অন্য কথা বলে জনগণের সঙ্গে চাতুরি করলে আওয়ামী লীগের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

রবিবার রাজধানীর তোপখানার সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।

বিএনপি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে। ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিন এবং সংস্কার কাজে যুক্ত হোন। কোনো আইনি মারপ্যাঁচে অভ্যুত্থানের অর্জন ধূলিসাৎ করার চেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না।

এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির এমপিরা তা না করে আইন লঙ্ঘন করেছেন। আইনসভার সদস্য হয়ে কীভাবে তারা আইন লঙ্ঘন করেন, সেটি আজ বড় প্রশ্ন।

গণভোট প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোটের আগে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ার ভয়ে আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’– এর কথা বললেও, ভোট শেষ হতেই তারা ‘না’ বেছে নিয়েছেন। এটি জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট চাতুরি। শুধু নির্বাচন আদায়ের জন্যই গণভোটে রাজি হওয়ার নাটক করেছিল বিএনপি।

আখতার হোসেন বলেন, ‘জনগণ সব দেখছে। আওয়ামী লীগ নিজেদের অনেক শক্তিশালী মনে করেছিল, কিন্তু তারা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়নি। বরং জনগণ রাস্তায় নেমে তাদের বিতাড়িত করেছে। বিএনপি যদি মনে করে ভোটের আগে জনগণকে সন্তুষ্ট রেখে পরে রায় প্রত্যাখ্যান করবে, তবে জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে প্রথম নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন। পরে খালেদা জিয়া এটিকে বর্তমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করেন।

রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমান যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন সেটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি মেয়েদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন। নারী শিক্ষার হার বাড়াতে খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নারী শিক্ষায় খালেদা জিয়ার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এটিকে তৃতীয় বিশ্বের একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ১০ মার্চ থেকে এই যুগান্তকারী কর্মসূচি শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।



banner close
banner close