জামায়াতের নেতৃত্বে জোটগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলেও আপাতত এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাবে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে দলটি। তাই সরকারকে অবস্থান পরিষ্কার করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
এদিকে, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বললেও ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। আর মেয়াদের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে করতে চায় স্থানীয় নির্বাচন।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার কাঠামোর নির্বাচনে নিজদের প্রস্তুতি ও অবস্থান নিয়ে যমুনা নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি জানালেন, এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীদেরকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এনসিপি দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়। এ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপি মুখপাত্র।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইঁয়া বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টা নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়টা সরকারের খুব দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত। দায়সারা বক্তব্য না দিয়ে নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে চায় তা বলা উচিত; একটা রূপরেখা দেওয়া... এখানে স্থানীয় সরকারের ৫টি কাঠামোতে নির্বাচন, সবগুলোর ব্যাপারে পরিষ্কার একটা বক্তব্য দেওয়া যে আগে এটা, তারপর এটা... এই টাইমলাইনের মধ্যে নির্বাচন করতে চায়। আমরা আশা করবো যে সরকার এটা পরিষ্কার করবে।
সাবেক এই স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার অভিযোগ, ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে। এটিকে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা হিসেবও দেখছে এনসিপি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইঁয়া বলেন, সরকার যখন কোনো ধরনের প্রক্রিয়া ছাড়াই ছয়জনকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দেয়, তখন আসলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যখনই হোক সেটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটাকে নষ্ট করে। এ বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে কোনো স্বচ্ছতা নেই যে তাদেরকে কয়দিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু উনারা বলছেন যে পরবর্তী করপোরেশন গঠন হওয়া পর্যন্ত... তার মানে এই প্রশাসক থাকা অবস্থায় নির্বাচন হবে। তাহলে এই নির্বাচনটা আসলেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ আছে। সকল পর্যায়ে প্রশাসক দিলে এটা এক ধরনের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বলে আমরা মনে করি।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত একটি নারী আসন পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন দলটির মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, এনসিপির যে ছয়টি আসন, তার অনুপাতে একটি নারী আসন পাচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে এনসিপি পাবে কি না কিংবা নেবে কি না সে বিষয়ে এখনও আলোচনা চলমান।
আরও পড়ুন:








