শুক্রবার

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভিআইপি আসন পাবনা-১: প্রথম কোনো বিজয়ী এমপি বিরোধী দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৮

শেয়ার

ভিআইপি আসন পাবনা-১: প্রথম কোনো বিজয়ী এমপি বিরোধী দলে
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার সবচেয়ে আলোচিত আসন ছিল ভিআইপি হিসাবে খ্যাত পাবনা-১ আসন। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ২০ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলের জন্যই আসনটি পুনরুদ্ধারের লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পায়।

শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ লড়াইয়ে জয়ী হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে নানা সম্ভাবনা থাকলেও বিএনপির জন্য আসনটি অধরাই থেকে গেছে। এ ফলাফলে দলের প্রার্থীসহ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন শেষে এখনও থামেনি পাবনা-১ আসন নিয়ে আলোচনা। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম ওই আসনের বিজয়ী সংসদ-সদস্য বিরোধী দলে। এবারের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে বিজয়ী হন জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৪৫ ভোট। ফলে ২৫ হাজার ৭২৯ ভোটের ব্যবধানে জয় পান মোমেন।

অন্যদিকে পাবনার অন্য দু’টি আসন—পাবনা-৩ ও পাবনা-৪—এ জামায়াত প্রার্থীরা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভোট ভাগাভাগির পরও পোস্টাল ব্যালটসহ মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু পাবনা-১ আসনে কেন এত বড় ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জাতীয় নির্বাচনে পাবনা-১ আসনটি সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। কেননা স্বাধীনতার পর থেকে বিগত সরকার পর্যন্ত সব নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে যে দল বিজয়ী হয়েছে সে-ই দলই সরকার গঠন করেছে। শুধু তা-ই নয়, সরকার গঠনের পর এ আসনের বিজয়ী সব সংসদ-সদস্য (এমপি) মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু এবারই হয়েছে ব্যতিক্রম। কেননা এবারের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়লাভ করলেও সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এসব দিক বিচেনায় ভোট শেষ হলেও এ আসন নিয়ে আলোচনা চলছেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাবনা-১ আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির মির্জা আব্দুল আউয়াল, ১৯৮৬ সালে এরশাদের লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, ১৯৯১ সালে জামায়াতের মতিউর রহমান নিজামী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ২০০১ সালে নিজামী এবং ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে (যদিও কয়েকটি নির্বাচন বিতর্কিত) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামসুল হক টুকু বিজয়ী হন। এ আসনে ১৯৭৯ সালের পর আর কখনো বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া (এরশাদ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী) মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাসিত হন এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালী থেকে বিএনপির টিকিটে বিজয়ী হন।



banner close
banner close