জাতীয় সংসদে ৭৭ আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। এ জোটের শীর্ষ নেতা জামায়াত আমির সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় হুইপ এবং ডেপুটি স্পিকার কাকে করা হবে এ নিয়েও আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ছায়া সংসদের ধারণা সম্পর্কেও আলোচনা করছেন জোটের নেতারা।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮, এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি মিলিয়ে ১১-দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের একজন এবং সাতজন স্বতন্ত্র সদস্য হয়েছেন। তারা সবাই বিরোধী দলের আসনে বসছেন।
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার করা হতে পারে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনকে। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। দলের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোমেন পাবনা-১ আসন থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
জামায়াত নেতারা বলছেন, আসন কম পেলেও জোটসঙ্গীদের মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া আলোচিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হতে পারে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হবেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হবেন উপনেতা। ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ডেপুটি স্পিকার হওয়ার বিষয়টিও প্রায় নিশ্চিত।
১১-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাদের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। তবে বাকি পদগুলো নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এনসিপির একটি সূত্র বলছে, জামায়াত জোট ছাড়ার জন্য দলের ভেতর চাপ বাড়ছে। নির্বাচনকালীন সময় শেষ হওয়ায় আলাদা হওয়ার জন্য অনেকেই প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে শীর্ষ নেতারা জোট রাখার পক্ষেই রয়েছেন।
কোনো কারণে এনসিপি জোটে না থাকলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তিন নায়েবে আমির থেকে একজনকে উপনেতা করতে পারে জামায়াত। রাজশাহী-৫ থেকে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ থেকে ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের এবং রংপুর-২ থেকে এটিএম আজহারুল ইসলাম এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। হুইপ পদে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪-এর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর নাম আলোচনায় আছে। তা ছাড়া চট্টগ্রামের জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানজনক যেকোনো পদ দেয়া হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক কিছুই আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ছায়া সংসদ : এদিকে, নির্বাচনের পরপর জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে দেশে এ ধরনের মন্ত্রিসভা গঠনের নজির না থাকলেও সরকারি দলসহ সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি এসেছে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে, যা সেখানে ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ নামে পরিচিত। এ রীতি অনুযায়ী বিরোধী দল একটি ছায়া সরকার গঠন করে। এর কাজ হলো সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব দেয়া। এর লক্ষ্য হচ্ছে সংসদীয় গণতন্ত্র আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা।
১১ দলের নেতারা বলছেন, ছায়া মন্ত্রিসভায় বিরোধী দলের বিভিন্ন সদস্যকে একেকটি দপ্তরের দায়িত্ব দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী কী করছেন, তার ওপর নজর রাখেন তিনি। গঠনমূলক সমালোচনা এবং পরামর্শও দেবেন তারা। তবে ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, এ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জোটের নেতারা।
আরও পড়ুন:








