রবিবার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদালতে রিটের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৫৫

শেয়ার

নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদালতে রিটের সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। পাশাপাশি, নির্বাচনের সময় গঠিত ১১ দলীয় জোট আগামীতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে অটুট রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন জোটের নেতারা।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে আরপিও অনুযায়ী অনেক আসনে ভোট পুনঃগণনার সুযোগ থেকে প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এ অবস্থায় যেসব আসনে ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের মতো অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকার পেতে হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে ৩০টিরও বেশি আসনে কারচুপির বিষয়ে আগামীকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জোটের নেতারা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- নির্বাচনী ঐক্য কেবল ভোটের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামীতে সংসদ এবং সংসদের বাইরেও এই ১১ দল একসঙ্গে ভূমিকা রাখবে। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে যখন যে ধরনের কর্মসূচি বা পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে, জোটগতভাবেই তা পালন করা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিস, জাগপা, লেবার পার্টিসহ জোটের অন্যান্য শরিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০টি আসনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন পাবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করায় এখানে কোনো দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানায় ১১ দলীয় ঐক্য।

নির্বাচনের আগে ও পরে ১১ দলীয় ঐক্যের নারী কর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে জোট। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত না করে জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।



banner close
banner close