বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
বৃহস্পতিবা দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেব না। ইনসাফভিত্তিক এমন একটি সমাজ গড়ব, যেখানে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী বা সাধারণ নাগরিক সবার সাজা হবে সমান।” তিনি জানান, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং জুলাই সনদসহ সকল সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে তারা একত্রিত হয়েছে।
জামায়াত আমীর বলেন, “আমাদের জোটে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি বা নারী নির্যাতনকারী নেই। আমরা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছি।” অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা না করে নিজস্ব গৌরবে এক ‘উত্তম বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “অনেকে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর কথা বলেন। আমরা বলি, আমরা একে একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদার বাংলাদেশ বানাতে চাই।”
নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরে নারীদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মজীবী নারীদের জন্য বিভিন্ন স্থানে বেবি কেয়ার ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং শিল্প এলাকায় শ্রমিক ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ‘না চাইতেই’ পরিশোধ নিশ্চিত করার নীতিমালা প্রণয়নের কথাও ঘোষণা করেন।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে যা যুবকদের বেকার নয়, বরং দেশগড়ার লড়াকু সৈনিক হিসেবে তৈরি করবে। বিচার বিভাগে কোনোরূপ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমীর। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, আর দ্বিতীয় ভোট হবে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায়।” উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর, নদীমাতৃক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নদীকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পুরোনো বন্দোবস্ত আর দেখতে চায় না। আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। সবার জন্য সমান বিচার হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, অপরাধীরা সংশোধনের সুযোগ পাবে।”
জনসভায় জেলা আমির মাওলানা আবুজার গিফারীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন তিন আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা।
আরও পড়ুন:








