জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে যারা অন্যায়ভাবে চরিত্রহনন করেছেন, তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি একজন আহত সৈনিক। গত কয়েক দিন ধরে দেখেছেন, আমার ওপর চতুর্দিক থেকে মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমি কোনো অ্যান্টি-মিসাইল ইউজ (ব্যবহার) করব না। বরং আপনাদের সাক্ষী রেখে, যারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার চরিত্র হনন করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিই।’
তিনি বলেন, প্রতিশোধ তার রাজনীতির অংশ নয়। ‘আমি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কাউকে ক্ষমা করতে পারলে সমাজের কাছ থেকেও একদিন নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায়,’—এমন বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজ ও দেশের বড় ক্ষতি করেছে। সে পথ আর অনুসরণ না করার অঙ্গীকারের কথাও জানানো হয়।
বক্তব্যে ’৪৭, ’৭১ ও ’২৪-এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি পরিচ্ছন্ন ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দলটি এগোচ্ছে। অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পেছনে ফেলে মেধা, উদ্ভাবন ও আদর্শনির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহারকে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব ও শৃঙ্খলাবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর ধরে তা যাচাই করা জনগণের অধিকার।
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও আলেম-ওলামাসহ কেউই নিপীড়নের বাইরে ছিলেন না। দলটি নিপীড়নের শিকার হলেও ৫ আগস্টের পর যেন কোনো অবস্থাতেই জালিমে পরিণত না হয়—এ আহ্বানও জানানো হয়।
শেষে তিনি বলেন, এ সময়ে কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে দেশের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। সে প্রসঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানানো হয়, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন অন্যায়ের পথে কেউ না হাঁটে।
আরও পড়ুন:








