আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হয়ে উঠতে সহায়তা করার অভিযোগে জাতীয় পার্টির (জাপা) নিবন্ধন বাতিল এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এ দাবিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল।
রবিবার নির্বাচন ভবনে ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা জানান।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক বলেন, ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের ভোট ডাকাতি এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে সহযোগিতা করে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিয়েছে। যে অপরাধ আওয়ামী লীগ করেছে, একই অপরাধে জাতীয় পার্টিও অপরাধী। আমরা জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু তা করা হয়নি। এর জন্য আমরা শুধু ইসি নয়, সরকারকেও দায়ী করছি।
তিনি জানান, জাতীয় পার্টির বিষয়ে সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবাদ জানাবে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, যাদের কারাগারে থাকার কথা, তারা আজ প্রকাশ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ও শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলছে। আমরা আজ ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। জাতীয় পার্টির প্রতি ইসির এই ‘সফটনেস’ বা নমনীয়তা দেখে আমরা অবাক ও আতঙ্কিত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই নির্বাচন কমিশন ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে বৈধতা দিয়েছে এবং দ্বৈত নাগরিকদের ভোট করার সুযোগ দিয়েছে। দিল্লির গোলাম হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত ক্ষতির দিকে ধাবিত করা হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ দুটি দাবি তুলে ধরেছে– আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে কাজ করায় জাতীয় পার্টির দলীয় নিবন্ধন বাতিল করা ও আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে অযোগ্য ঘোষণা করা।
ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা জানান, ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ‘সেন্ট্রাল ইস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আরও পড়ুন:








