শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের বাইরে নেওয়ার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। নির্বাচন বানচাল বা বিতর্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেন।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা নাটকীয়তা এবং বানচালের ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।তারা বলেন, আমরা আর পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না। আমাদের প্রত্যাশা পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারিতেই শাকসু নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নেতিবাচক ছাত্ররাজনীতির ধারা সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর ছাত্র সংসদের কোনো বিকল্প নেই। একটি শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক ছাত্র সংসদ ক্যাম্পাসে সুস্থ নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শাকসু নির্বাচন ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশিবির নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে এই নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নানা রাজনৈতিক সমীকরণের আশঙ্কায় শাকসু নির্বাচন কমিশনের একটি অংশ এবং নির্দিষ্ট একটি ছাত্রসংগঠন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন অজুহাত খুঁজছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ছাত্রশিবির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং কোনো চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
শিবির নেতারা আরও বলেন, “সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থানই শাকসু নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত করতে পারে। নির্বাচন বানচালের কোনো অপচেষ্টা শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।”
আরও পড়ুন:








