শনিবার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

গণভোটের দিন নিয়ে একই মঞ্চে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫৮

শেয়ার

গণভোটের দিন নিয়ে একই মঞ্চে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট নিয়ে আবার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক অনুষ্ঠানে সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট করার দাবি জানিয়ে বিএনপি বলেছে, যারা আগে গণভোট চাইছে, তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।

অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট দাবিতে আন্দোলনে থাকা জামায়াত বলেছে, জাতীয় নির্বাচনে মানুষের মনোযোগ থাকে দল ও প্রার্থীর ওপর। কেন্দ্র দখল, ভোটকেন্দ্র স্থগিত হওয়াসহ দুই ভোট একসঙ্গে হলে অনেক সময় লাগবে। গণভোটে ভোট কম পড়লে জুলাই সনদের জনসমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

সংবিধান সংস্কারে গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের বিপরীত অবস্থানের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দলগুলোকেই আলোচনা করে একমত হওয়ার আহ্বান জানায়। পরে জামায়াত আলোচনার প্রস্তাব দিলেও প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল ট্রেস কনসালট্যান্সি আয়োজিত প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সংলাপে বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

আমীর খসরু বলেন, ‘কথায় কথায় আপনি রাস্তায় যাবেন। এখন অন্য দল যদি তার প্রতিবাদে আবার রাস্তায় যায়, তাহলে কী হবে, সংঘর্ষ হবে না? বৃহত্তর দল বাংলাদেশে যদি রাস্তায় নামে এগুলোর প্রতিবাদে, সংঘর্ষ হবে। এ জন্য কি আমরা শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছি?’

তিনি কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি। তবে গণভোট আগে করাসহ পাঁচ দাবিতে রাজপথে নানা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। সংলাপে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদকে পাশে রেখে আমীর খসরু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো ‘অবসেসড’ হয়ে গেছে। কিছু কিছু রাজনীতিবিদের মধ্যে এ ধরনের মনমানসিকতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করতে হবে যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে আবার নতুন ইস্যু সৃষ্টি করলে কিন্তু ঐকমত্যের শ্রদ্ধা দেখানো হচ্ছে না। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ঐকমত্য হতে হবে।’

গণভোট প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও উপদেষ্টাদের শপথ হয়েছে বর্তমান সংবিধানের অধীনে। এই সংবিধানে তো গণভোটের বিষয় নেই। গণভোট করতে হলে আগামীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে তা পাস করাতে হবে।’

জামায়াতের আহ্বান প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সংলাপে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপির এখনকার আচরণে আওয়ামী লীগের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির মহাসচিবকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু ওনারা বলেছেন, জামায়াতের আহ্বানে তারা সাড়া দেবেন না। বিগত রেজিম কিন্তু এ ধরনের সুর সব সময় বাজাত যে, ওমুকের সাথে বসবে না। এই কালচার থেকে কি বের হতে পারি না? বিএনপি যদি আহ্বান করে জামায়াত যাবে এবং অন্যদেরও আহ্বান জানাবে।’

গণভোট প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। নির্বাচনে ৪৬ হাজার ভোটকেন্দ্র হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে আড়াই থেকে ছয় হাজার ভোটার। দুইটি ব্যালটে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে; ভোট কম পড়বে। গণভোটে ভোট কম পড়লে পরে জুলাই সনদে জনগণের সমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যদি রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত হবে এবং সে অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনের সাথে কোনো অনিশ্চয়তা যাতে না থাকে, সেজন্যই এটি খুব দ্রুত হবে।’

ট্রেস কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী ফুয়াদ এম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।



banner close
banner close