জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর আসামিপক্ষের শুনানি মঙ্গলবার।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-দুই এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সোমবার হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। তবে পলাতক আসামিদের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেনের বক্তব্য শোনার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-২।
এ মামলায় হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
গত ২৩ অক্টোবর হানিফসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে পলাতক থাকায় আইনানুযায়ী তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে এই চারজনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। না আসায় তাদের গ্রেপ্তারে জাতীয় দৈনিক দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে, ছয় অক্টোবর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-দুই। একইসাথে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পাঁচ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। এতে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা।
এদিকে, গত ২৩ অক্টোবর ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। একইসাথে তার বিচার শুরুর প্রার্থনা করেন। তবে আসামিপক্ষে শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী। পরে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ইনুর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সময় চান আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেছিলেন, এ মামলায় মোট ১৭০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র পড়তে ও প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য আট সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন। পরে আসামির সাথে তিনদিন দুই ঘণ্টা করে কথা বলার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
আরও পড়ুন:








