নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘আমজনতার দল’-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় চলমান প্রশাসনিক তদন্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভার বহন করতে সাধারণ জনগণ ও সমর্থকদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানান।
তারেক বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ইতিমধ্যে ১০৮টি উপজেলা অফিসের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৩টি জেলা কমিটির মধ্যে ২৩ জেলায় অফিসও স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ‘আমজনতার দল’ ২২টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২য় স্থানে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে, দ্বিতীয় ধাপে তদন্ত চলাকালীন হঠাৎ করে তাদের কাছে চিঠি আসে—তদন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
পরবর্তীতে তৃতীয় ধাপে আবারও নতুন করে কয়েকজন উপসচিবকে সারাদেশ ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারেকের ভাষ্যমতে, গত তিন দিন ধরে এই তৃতীয় ধাপের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
প্রতিটি ধাপের তদন্তে গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। দ্বিতীয় ধাপে তদন্ত স্থগিত হয়ে পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যয়ও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি তদন্তে ১৫-২০ জন করে সহযোদ্ধাকে উপস্থিত থাকতে হয়, যাদের দুপুরের খাবার, নাস্তা এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও দলের পক্ষ থেকেই করতে হচ্ছে।
তারেক আরও জানান, প্রতিটি ধাপে প্রায় ৩০,০০০ পৃষ্ঠার তথ্য ফটোকপি বা প্রিন্ট করতে হচ্ছে, যার ফলে ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে, দলের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট ও সমর্থনকারীদের কাছে তিনি বিকাশ ও নগদে আর্থিক সহায়তা কামনা করেন। আগ্রহীদের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের আহ্বানও জানান তিনি।
বিকাশের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের একটি বিষয় নিয়ে অতীতে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা নূরুল হক নূর। তারেক এর আগে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং নূরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও, নূরকে এ বিষয়ে একাধিকবার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে এবং এখনও তিনি প্রায়ই এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন।
এদিকে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মন্তব্য করেছেন, ডিজিএফআই অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়ার পর এখন তারেক নগদ ও বিকাশে সহায়তা চাইছেন।
গণঅধিকার পরিষদের একটি অংশ ২০২৩ সালের ২০ জুন দলটির নৈতিক ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে ‘আমজনতার দল’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। তবে এরই মধ্যে নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করলেও এখনও তা পায়নি আমজমতার দল।
আরও পড়ুন:








