নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে প্রশাসন ও সরকারের কিছু উপদেষ্টার মধ্যে ততই অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কিছু উপদেষ্টাই গোপনে একটি দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের ক্ষমতায় আনতে কাজ করছেন।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় খুলনার পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। সমাবেশটি আয়োজন করে পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং খুলনা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক না হলে দেশের সংকট কাটবে না। তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের কেউ কেউ গোপনভাবে একটি দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখতে সকল স্তরের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় এলে তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সকলের জন্যসমান শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো যুদ্ধ ঘোষণা করবে। তার কথায়, সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোরআনের আইনকে সংসদে উপস্থাপন করে কোরআনের ভিত্তিতে সমাজ গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি নাগরিকদের দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়াও তিনি বলেন, এর আগে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব হয়েছে, এবার সুশাসনের জন্য বিপ্লব ঘটাতে হবে। মুসলিম ঐক্য থাকলে অন্যরা বাতিলের খাতায় চলে যাবে। এছাড়া নির্বাচনে জয়ী হলে জামায়াত নেতারা কোনো সরকারি প্লট, গাড়ি, বাড়ি বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করবেন না, এমন ঘোষণা দেন তিনি এবং অন্যান্য দলকেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেনের পরিচালনায় খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার আল গিফারী, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ইসলামি নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতারা। উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য, উপজেলা এবং থানা পর্যায়ের বিশিষ্ট আলেম ওলামা ও নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন:








