আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন ও খুলনার সিদ্দিকীয়া জামেয়া-ই-মাদানিয়া ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী বলেছেন, বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আজীবন কুরআনের বাণী প্রচার ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি সাজা দিয়ে সরকার তাকে দীর্ঘ ১৩টি বছর কারাগারে আটকে রেখে অবহেলা করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। জীবিত থাকা অবস্থায় আল্লামা সাঈদীর ওপর বিচারের নামে অবিচার করা হয়েছে, এমনকি মৃত্যুর পর তার লাশের সাথেও নিষ্ঠুর আচরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আল্লামা সাঈদী নয়, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে শহীদ করা হয়েছে। এসব অবিচারের বিচার বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত। যাতে আর কোনো নিরপরাধ মানুষ এভাবে বিচারিক জুলুমের শিকার না হন। আল্লামা সাঈদী সারা বাংলাদেশে তথা গোটা বিশ্বে কুরআনের তাফসির করেছেন, কুরআনের আলোকে জীবন গঠনে কাজ করেছেন, কুরআনের সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর সিদ্দিকীয়া মহল্লাস্থ দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার হাজী শেখ আব্দুর রশিদ মিলনায়তনে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিদ্দিকীয়া জামেয়া-ই-মাদানিয়া ট্রাস্ট খুলনার উদ্যোগে তার জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য শামীম সাঈদী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে আল্লামা সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে জাতি আজ সন্দিহান। কারণ যে চিকিৎসক আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করেছে, সে যদি এই আসামিকে তার হাতে পায় খুন করতে দ্বিধা করবে না। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। আল্লামা সাঈদীকে হত্যা করে এদেশ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না।
শামীম সাঈদী বলেন, জাতীয় সংসদে পরপর দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও ক্ষমতা ও শক্তি দিয়ে নয় বরং উত্তম ব্যবহার, কথা ও কাজ দিয়ে জনগণকে যে মন্ত্রমুগ্ধ করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। এমনকি তিনি তার নিজ এলাকায় অমুসলিম জনগণের
সমর্থন অর্জনে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছিলেন। অমুসলিমগণের নিকট তার অবস্থান ছিল মাতৃক্রোড়ে থাকার মতো নিরাপদ। জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে জাতীয় সংসদে তার বক্তব্য ছিল অভিভাবকসুলভ। সেই ঐতিহাসিক বক্তব্যসমূহ এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে। ইসলামের প্রচার-প্রসারে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তার জীবন ও কর্মকে সকলের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এই নামটি বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু তার জীবন কেবল বিতর্কের নয়; বরং বিশাল জ্ঞানের আলো, ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার এবং মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলার এক উজ্জ্বল নিদর্শনও। তিনি ছিলেন একজন শ্রদ্ধাভাজন আলেম, যিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এমনকি আফ্রিকাসহ বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে সম্মানিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:








