মঙ্গলবার

৭ জুলাই, ২০২৬ ২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

গাইবান্ধা-১ জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হিড়িক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৫ ২০:১২

শেয়ার

গাইবান্ধা-১ জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হিড়িক
ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী এখনো মাঠে সক্রিয় রয়েছেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার চিত্রও তুলে ধরছে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে ইতোমধ্যে হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন তিনি। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং ঘন ঘন এলাকায় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. জিয়াউল ইসলাম জিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আরেফিন আজিজ সরদার সিন্টু, জেলা সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াৎ হোসেন মিলন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির এসব সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়মিতভাবে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভা করে চলেছেন। তবে, তৃণমূল পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ না নেওয়ায় দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা অচলাবস্থা বিরাজ করছে, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়গুলোতে পাশে থেকেছি, মামলা-জেল খেটেছি। আশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।”

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সাখাওয়াৎ হোসেন মিলন বলেন, “আমি দলের একজন আদর্শবান কর্মী এবং ‘কলমযোদ্ধা’ হিসেবে মাঠে আছি। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়েই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”

সাবেক পৌর প্রশাসক আজিজার রহমান সরদারের ছেলে আরেফিন আজিজ সরদার সিন্টু বলেন, “সুন্দরগঞ্জকে একটি স্মার্ট ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে মুখ্য।”

অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, “আমি এর আগেও এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, তবে ভোট ডাকাতির কারণে জনগণ আমাকে ভোট দিতে পারেনি। এবারও জামায়াতের সিদ্ধান্তে মাঠে নেমেছি। জনগণের খাদেম হিসেবেই কাজ করতে চাই।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-১ আসনে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৪৭১ জন, নারী ২ লাখ ৯ হাজার ৫৭৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। নতুন ভোটার হয়েছেন ১৯ হাজার ৫৫৬ জন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সুসংগঠিত প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় তারা অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে বিএনপিতে ঐক্যহীনতা ও বিলম্বিত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী দৌড়ে দলটিকে পিছিয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।



banner close
banner close