রবিবার

৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩

৭-ই নভেম্বরের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানকে যেভাবে ‘দোষী’ বানায় প্রথম আলো!

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৩২

শেয়ার

৭-ই নভেম্বরের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানকে যেভাবে ‘দোষী’ বানায় প্রথম আলো!
ছবি সংগৃহীত

আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিবর্তনের মতোই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতির রূপান্তর প্রায়শই জনমনে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র দীর্ঘমেয়াদি সম্পাদকীয় ধারা এবং সাম্প্রতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও পাঠকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগত প্রায় ১৫ বছরের শাসনকালে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বয়ান লালন ও প্রচারের ক্ষেত্রে পত্রিকাটির যে অবস্থান ছিল, চব্বিশের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক পরিবেশের এই রূপান্তরের সঙ্গে সংগতি রেখে গণমাধ্যমটি যেভাবে নিজেদের অবস্থান বদলেছে, তা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মানদণ্ডে পুনর্বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

২০১৪ সালের প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমানকে দোষী করা

সময়টা, ২০১৪ সালের শনিবার (৮ নভেম্বর)। প্রথম আলো তাদের নিয়মিত আয়োজনে ‘৭ নভেম্বরের বিপ্লব এগোলো না পেছাল?’ শিরোনামে বেশ বড়সড় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই শিরোনামের ঠিক আড়ালে প্রথম আলো তাদের প্রতিবেদনে সরাসরি লেখে, ‘৭ নভেম্বর কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে যদি অভ্যুত্থান না হতো, তাহলে এই বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ার মতো রক্তাক্ত হতো। কিন্তু অভ্যুত্থানের নায়ক তাহেরকেই প্রতিবিপ্লবীরা হত্যা করে। এর জন্য দায়ী প্রতিবিপ্লবীদের প্রতিনিধি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান।‘

সেদিনের সেই পাতার দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের কী-বোর্ড, মাউস কী দারুণ মুন্সিয়ানায় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সেদিন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সরাসরি প্রতিবিপ্লবী ও খুনি হিসেবে দাগিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিল এই পত্রিকা।

অবশ্য ইতিহাস তো আর মতিউর রহমানের প্রথম আলোর সম্পাদকীয় কক্ষের মুড বুঝে চলে না। কাগজে হয়তো তখন একপাক্ষিক বয়ান ছাপিয়েছিল, কিন্তু ইতিহাসের নথিপত্র বলে অন্য কথা। কর্নেল তাহের ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ সেনানিবাসে এক রক্তক্ষয়ী বিভীষিকা তৈরি করে অন্তত ১২ জন বীর সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করা, সশস্ত্র বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো অপরাধে বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৭৬ সালের বুধবার (২১ জুলাই) জিয়াউর রহমানের আমলেই কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। অথচ, প্রথম আলোর সেদিনের কলম সেই অভ্যুত্থানের পেছনের রক্তপাতকে আড়াল করে সমস্ত দায় চাপাতে চেয়েছিল জিয়াউর রহমানের কাঁধে।

২০১৭ সালের কলামে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ

আর এই ধারাবাহিকতার পরের দৃশ্যপট রচিত হয়, ২০১৭ সালের শুক্রবার (২১ জুলাই)। সেদিন প্রথম আলোর পাতায় হাজির হন রাজনীতির চিরচেনা মুখ, জাসদ নেতা ও স্বৈরাচারের অন্যতম দোসর হাসানুল হক ইনু। তাঁর কলম থেকে বের হওয়া ‘প্রহসনের ফাঁসি ও কর্নেল তাহের’ শিরোনামের কলামটি ছাপাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি প্রথম আলো।

ইনুর সেই নিবন্ধের সূত্র ধরে পত্রিকার পাতা সাক্ষী দেয়, কীভাবে জিয়াউর রহমানকে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেখানে বেশ বড়সড় হুংকার দিয়ে লেখা হয়েছিল যে, জিয়া নাকি শুধু বিপ্লবী সেনাদের সাথেই নয়, ৭ নভেম্বরের পবিত্র অঙ্গীকার ও গোটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এমনকি জাতির ইতিহাসে মীর জাফরের সাথে তুলনা টেনে তাঁকে একপ্রকার খলনায়কের আসনে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল পরম যত্নে। ইনিয়ে বিনিয়ে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের জন্য একটি পক্ষকে, স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের হীন চেষ্টা লক্ষ্য করা যায় মতির সম্পাদিত পত্রিকায়।

সোহরাব হাসানের কলামে বিপ্লব অস্বীকারের অভিযোগ

২০১৪ আর ১৭ সালের পর, জনগণের ঐতিহাসিক সচেতনতার দেয়াল যখন সংবাদমাধ্যমের সব কৌশলকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলল, ঠিক তখনই নিজের পুরানো বয়ানকে টিকিয়ে রাখতে ফের কলম ধরলেন প্রথম আলোর কলামিস্ট সোহরাব হাসান।

‘৭ নভেম্বরের কুশীলবেরা কে কোথায়’ শিরোনামের সেই কলামে যেন এক আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ঘোষণা করা হলো, ৭ নভেম্বরকে নাকি এখন আর কেউ বিপ্লব বলে না, আর সময়ের পরিক্রমায় ম্লান হয়ে গেছে সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা।

কলামের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান কিংবা কথিত বিপ্লব উল্লেখ করে প্রচেষ্টার নেপথ্য ইতিহাস। এতে বলা হয়, এই ঘটনার মূল কুশীলবদের অনেকেই জীবিত নেই। অভ্যুত্থানের দুই প্রধান চালিকাশক্তি, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং কর্নেল তাহের, উভয়েই প্রয়াত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মূলত বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ক্ষমতায় আসীন করার নেপথ্যে কর্নেল তাহেরের মূল অনুপ্রেরণা ছিল সেনাবাহিনীতে জিয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা।

তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় অভ্যুত্থানের সূচনালগ্নেই। তাহের ও জাসদের গড়া ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’-এর সদস্যরা ‘সৈনিক সৈনিক, ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’ স্লোগান তুলে ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেন।

এমন পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, এক বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার দাবি মেনে নিয়ে সেনাবাহিনীকে ‘অফিসারমুক্ত’ করা কিংবা দুই সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কঠোর অবস্থান নেয়া। শেষ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় পথটি বেছে নেন এবং এর মাধ্যমেই জাসদ ও সৈনিক সংস্থার তথাকথিত বিপ্লবের সমাপ্তি ঘটে।

কলামে সরাসরি অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে জিয়াউর রহমান প্রহসনমূলক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেন। এর আগে তাহের নিজেও জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ক্ষমতার দীর্ঘ এই রাজনৈতিক সংঘাতে জিয়া বিজয়ী হলেও জীবন দিতে হয় কর্নেল তাহেরকে।

প্রথম আলোর কলাম বিশ্লেষণে ইঙ্গিত করা হয়, কর্নেল তাহেরের বিচার যদি সত্যিই প্রহসনমূলক বা সাজানো হয়ে থাকে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়ে থাকে, তবে স্বাভাবিক নিয়মেই সেই বিচার প্রক্রিয়ার নির্দেশদাতা ও মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁকে মরণোত্তর আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়টিও পরোক্ষভাবে সামনে নিয়ে আসা হয়।

২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ভিন্ন বয়ান

কিন্তু, গোল বাধল ২০২৪ সালের চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গের মুখে যখন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের মসনদ চিরতরে ধসে পড়ল, তখন প্রথম আলোর সম্পাদকীয় দপ্তরেও শুরু হলো নতুন ঋতুর হাওয়া বদল। আর তার সুমহান প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক ২৬ সালের ৭ নভেম্বর। সেদিন তাদের পত্রিকার পাতা খুললে মনে হবে অন্য কোনো গ্রহের পত্রিকা পড়ছে পাঠকরা। ওই লেখার শিরোনাম দেয়া হয়, ‘আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর’। আর সেই সংবাদের নিচে বর্তমান সময়ের সাথে সুর মিলিয়ে তারা দারুণ এক বয়ান সাজাল, সেদিন নাকি বন্দী থাকা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সিপাহি-জনতা ও সর্বস্তরের মানুষ এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্ত করে এনেছিল, এবং জনগণের ভালোবাসা ধারণ করে জিয়াউর রহমান নাকি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

কী চমৎকার শিল্পকলা। একসময়ের সেই ‘মীর জাফর’ বা ‘প্রতিবিপ্লবী’ জিয়াউর রহমানকেই পটপরিবর্তনের হাওয়া লেগে হঠাৎ করে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বানিয়ে দেয়া হলো। এক সময় ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বা সংহতি দিবস হিসেবে বলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সেই পত্রিকাতেই আবার জিয়াউর রহমানের গুনগান গেয়ে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক দিবস।

প্রথম আলোর এই সুকৌশলী রূপ বদলে, তারা যেন বুঝিয়ে দিল, নীতি বা আদর্শ বলে কিছু নেই, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গিরগিটির মতো রঙ বদলাতে পারাই হলো কর্পোরেট সাংবাদিকতার আসল আর্ট। অথচ, সত্যে অটল বলে সাম্প্রতিক সময়েই নানা কৌশল নিতে দেখা যায় পত্রিকাটিকে।

বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

আর এই গিরগিটি রূপ বদলের ধারাবাহিকতা কেবল ৭ই নভেম্বরের বয়ানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিএনপি, জিয়া পরিবার ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে এই পত্রিকার বিরুদ্ধে।

বিএনপিকে টার্গেট করে একের পর এক মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল তারা। ২০০৮ সালে ‘খালেদা জিয়ার সম্মতিতে বসুন্ধরার কাছে ১০০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন তারেক’, কিংবা ‘বাবর আসামি হচ্ছেন, সন্দেহে তারেক’ এমন সব চটকদার শিরোনামে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি একাত্তরের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজিয়ে নিরীহ মানুষের জীবন তছরুপ করার পেছনেও তাদের দায় কম ছিল না পত্রিকাটির। মুফতি হান্নানের মতো আলেমকে জঙ্গি বানিয়ে ফাঁসি নিশ্চিত করা কিংবা সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউল হককে বিতর্কিত করার নেপথ্যের কারিগর হিসেবেও উঠে আসে প্রথম আলোর চক্রান্তের কথা।

শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রথম আলোর ব্যঙ্গাত্মক ক্রোড়পত্র ‘রসালো’-তে প্রকাশিত একটি চিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যেখানে তারেক রহমানকে ‘চেয়ার গরম’ হিসেবে ব্যঙ্গ করা হয়।

এর আগেও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবির সাথে ‘বিএনপিতে পরিবারতন্ত্র বলে কিছু নেই’ জুড়ে দিয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণকে উসকে দেয়া হয়েছিল। এছাড়া, রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রথম আলোর পাতায় প্রকাশিত ‘ঈদ মোবারক’ ও কুকুরের ছবি সংবলিত কার্টুন কিংবা ২০০৭ সালের সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘আলপিন’-এ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে প্রকাশিত অবমাননাকর কার্টুন দেশবাসীর ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছিল।

আর এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর দিন এ দেশের বিক্ষুব্ধ ও স্বাধীনতাকামী জনতা যখন আক্ষেপ ও ক্ষোভ নিয়ে, এসব গণমাধ্যমকে প্রতিহত করে, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, জনগণ এই অপসাংবাদিকতার জাল চিরতরে ছিঁড়ে ফেলতে চায়।

ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে সমালোচনা

আর এত সব ভুল, অপকর্ম, গুজব ও অপপ্রচারের অভিযোগের পর সম্প্রতি টনক নড়েছে এসব গণমাধ্যমের। ইতিপূর্বে প্রথম আলোর মালিকপক্ষের আরেক পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম নিজেই স্বীকার করেছিলেন, ডিজিএফআই-এর দেয়া তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করা ছিল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের বড় ভুল।

আর তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানও তাঁদের অতীতের নানা ভুল ও অপকর্মের জন্য পত্রিকার কলামে দুঃখ প্রকাশ করে একটি ‘স্যরি’ বা ক্ষমা প্রার্থনার সুর তোলার চেষ্টা করেছেন। তবে, পাঠকরা একে কোনো অনুশোচনা না ভেবে বরং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন এবং চারদিকে এটি নিয়ে চলছে তুমুল ব্যঙ্গ, উপহাস ও সমালোচনা।

সবমিলিয়ে, মুখে গণতন্ত্র আর সততার বুলি ছড়ালেও ভেতরে ক্ষমতার তোষণ, অপপ্রচার আর গিরগিটির মতো চরিত্র বদলের যে নগ্ন চিত্র থলের বাইরে চলে এসেছে, তার শেষ কোথায়? অপসাংবাদিকতার এই জাল ছিঁড়ে, আইনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তে সাপেক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি, ছাত্র-জনতার।