রবিবার

৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৬

শেয়ার

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন
ছবি সংগৃহীত

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির এমন চিত্র উঠে এসেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করতে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থাটির নিজস্ব সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে স্বামী-স্ত্রীর

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৬ জন। এ ছাড়া পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।

অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির চিত্রও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৭২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ২১১টি, তিনজনের ১১৮টি, চারজনের ৯২টি, পাঁচজনের ৫৩টি, ছয়জনের ৩৮টি এবং সাতজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৩টি।

মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় প্রাণহানি

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজনের ৪৬টি, চারজনের ৩৯টি, পাঁচজনের ২৮টি এবং ছয়জনের ২০টি। এ ছাড়া ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চারটি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা একটি। সব মিলিয়ে ১৮৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, তিনজনের ৩১টি, চারজনের ২৪টি এবং পাঁচজনের ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫২ জন।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজনের ১৫টি, চারজনের নয়টি, পাঁচজনের সাতটি এবং আটজনের তিনটি। এসব ঘটনায় মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন।

এ ছাড়া বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজনের নয়টি এবং চারজনের ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। অন্যদিকে, পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে।

পরিবারের একসঙ্গে চলাচলসহ যেসব কারণ চিহ্নিত

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে পরিবারভিত্তিক প্রাণহানির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা এবং এসব যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা।

এ ছাড়া চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

দুর্ঘটনা কমাতে যেসব সুপারিশ

পরিবারভিত্তিক প্রাণহানি কমাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ সড়ক নকশা তৈরি এবং সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।