আওয়ামী লীগের সুসময়ে সুবিধা ভোগ করা স্বৈরাচারের দোসররা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ফের এক ছাতার নিচে একত্র হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি বা বাচসাস-এর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও নব্য বিএনপি সেজে স্বৈরাচারের এই ফ্যাসিস্টরা নতুন কৌশল শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের বাচসাস-এর নির্বাচন আগামী শুক্রবার (২০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি এফডিসিতে আওয়ামীপন্থীদের কমিটির জন্য ৩০ লাখ টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান করানোর অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। সেই একই চক্র বাচসাস নির্বাচনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের একজোট করতে মাঠে নেমেছে বলেও সমালোচনা রয়েছে। সচেতন মহলের মতে নব্য বিএনপি সাজা এই স্বৈরাচাররা সুযোগ বুঝে আবারও খোলস বদলে হাসিনার নামে স্লোগান দেবে।
প্যানেল গঠনে আবদুর রহমানের ভূমিকা
জানা গেছে এই চক্রের অন্যতম মূলহোতা দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত আবদুর রহমান। ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অতীতে বাচসাস থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তাকে আবার সেন্সর বোর্ডের সদস্য করায় পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমানকে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিজেকে এখন প্রকাণ্ড বিএনপি দাবি করলেও এই রহমানই প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের দোসরদের এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে বলেও নানা সময়ে আলোচনা উঠেছে।
রহমানের তৈরি এই প্যানেলে যুক্ত হয়েছে স্বৈরাচারী আমলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নেওয়া ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিববুর রহমানের অনুসারী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন শাখার তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রাহাত সাইফুল। তিনি বাচসাস নির্বাচনে লড়ছেন সাধারণ সম্পাদক পদে।
রাহাত সাইফুল সম্প্রতি সরকারি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হয়েছেন যা নিয়েও তোলপাড় সৃষ্টি হয় সংশ্লিষ্ট মহলে।
পাশাপাশি আবদুর রহমান ও রাহাত সাইফুল প্যানেলে ভিড়েছে জুলাইবিরোধী হিসেবে পরিচিত রিমন মাহফুজ রাজু আলীম হামিদ মোহাম্মদ জসিম এ এইচ মুরাদ সালাম মাহমুদ ও শফিকুল আলম মিলন। এছাড়া যুক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের ও লিয়াকত আলী লাকীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে খ্যাত সুকন্যা আমিরসহ আরও বেশ কয়েকজনকে।
নির্বাচন কমিশন নিয়েও বিতর্ক
এদিকে শুধু প্যানেল নয় বাচসাস নির্বাচন কমিশন নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনে রয়েছে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য আবুল হোসেন মজুমদার। কিছুদিন আগে নারীঘটিত বিষয়ে কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে ধরা খেয়ে মারধরের শিকার হয়ে জরিমানা গোনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে এই অপকর্মে যুক্ত ছিলেন আমিনুর রাজু এবং ইমরুল শাহেদ নামের আরও দুই আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক।
অভিযোগ অস্বীকার
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেলটির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রাহাত সাইফুল। তিনি দাবি করেন নির্বাচনের আগে তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিচিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সহসভাপতি পদপ্রার্থী রিমন মাহফুজ জানান কোনো দলীয় পরিচয় নয় বরং সুযোগ মিললে সবাইকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করতে চান তিনি।
স্বৈরাচারের চিহ্নিত দোসরদের ইঙ্গিত করে সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছে ভোল পাল্টে সুযোগ নেওয়া এই অপশক্তিকে প্রতিহত করা না গেলে ঐতিহ্যবাহী বাচসাসের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
আরও পড়ুন:







