বুধবার

৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

খেলাপি সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণে বিশেষ ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৯

শেয়ার

খেলাপি সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণে বিশেষ ছাড়
ছবি সংগৃহীত

ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি ধারার প্রয়োগ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আটটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলতি মূলধন হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে।

২০২৭ সালের শেষ দিন পর্যন্ত আইনি ছাড়

বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ (কক) (৩) ধারার প্রয়োগ থেকে সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দিয়েছে। এ ধারায় ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সিন্ডিকেট ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিধান কার্যকর হবে না।

অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান পাঁচটিই ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত।

সিন্ডিকেট ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

এর আগে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেট সিটি গ্রুপকে নতুন করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছিল। পরে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পুরো অর্থ চলতি মূলধন হিসেবে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেটে রয়েছে সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

জামানত ও ঋণ পরিশোধে যেসব শর্ত

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঋণের দায় সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহন করবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটের অন্য ব্যাংকগুলোও সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

ঋণের বিপরীতে সিটি গ্রুপকে এমন সম্পদ জামানত দিতে হবে, যেগুলো অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়নি। এসব সম্পদ নিবন্ধিত বন্ধকনামার মাধ্যমে জামানত হিসেবে দিতে হবে।

সিন্ডিকেট ঋণের অর্থ দিয়ে কেনা পণ্য বিক্রির টাকা নির্ধারিত একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। প্রত্যেক ব্যাংকের অর্থায়নের অনুপাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর জামানত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা কাঁচামাল কিনবে। পরে জিম্মাদার হিসেবে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করবে।

সিটি গ্রুপের কাছে ২৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ

সিটি গ্রুপের কাছে দেশি-বিদেশি ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে গ্রুপটির ঋণকে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত করেছে।