বুধবার

৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিটের আদেশ ১১ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৭

শেয়ার

দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিটের আদেশ ১১ নভেম্বর
ছবি সংগৃহীত

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. ইউসুফ আলী ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।

দুদকের দুই প্রেস ব্রিফিং নিয়ে রিট

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। অনুসন্ধানাধীন বিষয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।

রিট আবেদনে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুসন্ধানাধীন বিষয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের সমান গুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা এ রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপপরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে দুদক আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান শুরুর আগেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই বলে দাবি করেছেন রিটকারী।

আবেদনে আরও বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ওই বক্তব্যকে মুখ ফসকে বলা কথা বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। তবে বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কোনো বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

দ্বিতীয় ব্রিফিংয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ

রিটে উল্লেখ করা হয়, ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি সংবাদ ব্রিফিং করেন। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।

এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে রিটে আসিফ মাহমুদ বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে, তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর। ফলে ওই পদোন্নতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

রিটে আরও বলা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এসব সংবাদ ব্রিফিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিচার চালানো হচ্ছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত মৌলিক অধিকার এবং তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১-এর পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন রিটকারী।