বুধবার

৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি সতর্কতা, মাঠে থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৭

শেয়ার

ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি সতর্কতা, মাঠে থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও
ছবি সংগৃহীত

ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের মিত্র দল-জোটগুলোকেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে রাজপথে সক্রিয় থাকার প্রস্তুতিও রাখছে দলগুলো।

সরকার ও বিএনপির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে সরকার। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ এসব সংগঠন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলে বিশেষ নজরদারি

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক সূত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে সরকার। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশব্যাপী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে রাজধানী, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যাংক, কেপিআইভুক্ত স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডাকা জরুরি বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বর সামনে রেখে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও করণীয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

সরকারের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, চলমান অস্থিরতার সঙ্গে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতা সম্পৃক্ত। তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা ও ব্যবসায়ীর সরাসরি ইন্ধন রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যান্য খাতের আওয়ামী লীগ-সমর্থক কিছু ব্যবসায়ীর পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে সরকারের কাছে।

সরকারের ধারণা, শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলাই এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য। এ কারণে সন্দেহভাজন শ্রমিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠকের আলোচনা এবং দলীয় ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। এ অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে কিছু শিল্পমালিকও জড়িত। তাঁদের কেউ কেউ বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিষয়ে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে, যাতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করা যায়।

তাঁর দাবি, চলমান সহিংস আন্দোলনে প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের সম্পৃক্ততা তেমন নেই। গত কয়েক দিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া ও শিল্প খাত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানীরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে প্রবেশ করেছে। তারা ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজপথে সতর্ক অবস্থানে বিএনপি ও মিত্ররা

সরকার ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর সামনে রেখে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি এবং তাদের মিত্র দল-জোটগুলোর নেতাকর্মীরাও সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজনে তাঁরা রাজপথে সক্রিয় হবেন।

এর প্রতিফলন দেখা গেছে গতকাল সাভারের আশুলিয়ায়। শ্রমিক অসন্তোষের নামে বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের কথা জানিয়ে সকাল থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে জিরাবো এলাকা পর্যন্ত সড়কে টহল দিয়েছেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

তবে নৈরাজ্য প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিএনপি ও মিত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা যেন নিজেরা কোনো সংঘাত বা সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়েন, সে নির্দেশনাও দিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ও নিরীহ শ্রমিকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থা করবে সরকার।

আন্দোলনের মাঠ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আন্দোলনের মাঠ কাউকে মৌরসি পাট্টা দেওয়া হয়নি। আন্দোলনের নামে সংঘাত সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি যানবাহনে আগুন দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশিরভাগই পরাজিত শক্তির দোসর বলে দাবি করেন তিনি। বিএনপি এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে বলেও জানান রিজভী।