মঙ্গলবার

৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীলতার চক্রান্ত; নেপথ্যে ফ্যাসিবাদের দোসররা

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৬

শেয়ার

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীলতার চক্রান্ত; নেপথ্যে ফ্যাসিবাদের দোসররা
ছবি সংগৃহীত

চলমান শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে পুঁজি করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বা তৃতীয় পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও উসকানি দিয়ে শিল্প খাতকে স্থবির করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তবে, তথ্য অনুযায়ী এর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ও হাস্যকর রাজনৈতিক দিবাস্বপ্ন। পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ডিসেম্বরেই দেশে ফিরছেন, পাগলের প্রলাপের মতো এমন সব বালখিল্য ও অবাস্তব দাবি তুলে রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ফ্যাসিবাদের দোসররা।

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের শঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই কথিত ও ভুঁইফোড় প্রত্যাবর্তনের কাল্পনিক বেলুন ফুলাতেই মূলত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশে এক ভয়াবহ অরাজকতা সৃষ্টির চক্রান্ত কষা হয়েছে। জানা গেছে, শিল্প খাতকে ধ্বংস করে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দেয়ার এই অপচেষ্টা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে এই নাশকতার সুনির্দিষ্ট কিছু ডিজিটাল আলামত। বিদেশে বসে সাইবার স্পেসে প্রতিনিয়ত এসব বালখিল্য ও অবাস্তব প্রচারণাকে উসকে দিচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা।

বিশেষ করে সামনে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামসহ একাধিক নেতার উসকানিমূলক পোস্টের কথা। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা ছড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হতে সরাসরি ফেসবুক পেজ ও মেসেঞ্জার গ্রুপে বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই ছাত্রনেতারা।

গত কয়েকদিনে রাজধানীর মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী এলাকা ছাড়াও সাভার-আশুলিয়া এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং মাঠে বিজিএমইএ ও বিজিবির সহায়তা চাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আন্দোলনরত মূল শ্রমিকদের আড়ালে হেলমেট ও মাস্ক পরা বহিরাগত আ.লীগ ঢুকে এই তাণ্ডব চালিয়েছে।

মিরপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

মিরপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক বহিরাগত নেতাকর্মীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে বিশেষ উদ্দেশ্যে এসে মিছিলে পিকেটিংয়ে সরাসরি অংশ নেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. ওলিউল্লাহ অনিক। একইভাবে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় এসে মিরপুরের বিভিন্ন স্পটে তাণ্ডব চালিয়ে নাশকতার ছক বাস্তবায়নের সময় ডিবির হাতে ধরা পড়েন আওয়ামী কর্মী আরিফ আকন্দ। আর এদের সঙ্গে পঞ্চগড় এলাকা থেকে ঢাকায় আসা মো. নাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়াও, সাভার ও আশুলিয়ার শিল্প কারখানায় বহিরাগতদের ঢুকিয়ে উসকানি দেয়ার সময় আটক হন জুবায়েদ ইসলাম জিসান। অন্যদিকে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে এসে মিরপুরের সহিংসতায় ইন্ধন ও সমন্বয় করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ধরা পড়েন আওয়ামী সমর্থক জায়েদ করিম রিয়াজ এবং তার সহযোগী মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়াদের মধ্যে আরও রয়েছে মুন্সীগঞ্জ এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের মদদ দিতে আসা আওয়ামী পরিবারের সন্তান আলিফ হোসেন ইমন এবং অরাজকতার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো যুবলীগের মো. রমজান সরকার। ঢাকার ভেতরের নাশকতামূলক মিছিলে লোক সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত শ্রমিক লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল গাজীর বিরুদ্ধেও।

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে এই রাজনৈতিক চক্রান্তের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে তৈরি পোশাক শিল্প। বিজিএমইএ-এর তথ্য মতে, কয়েক ডজন কারখানা ছুটির কারণে বৈদেশিক অর্ডারের শিপমেন্ট বায়ারদের হাতছাড়া হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ পদক্ষেপে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন হওয়ায় শ্রমিকদের স্ব-স্ব কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যৌক্তিক দাবি পর্যালোচনার পাশাপাশি শিল্প খাতের সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। দেশবিরোধী ও নাশকতার মাস্টারমাইন্ডদের সমূলে উপড়ে ফেলে শিল্প চাকা সচল রাখা এখন সময়ের দাবি।