সোমবার

২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান; মজুত ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:০২

আপডেট: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:০৫

শেয়ার

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান; মজুত ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল রামপুর ইউনিয়নে সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শেষে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। কূপটির দুটি জোনে (অংশে) ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন। কূপ থেকে প্রতিদিন দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা করেছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বলনের মাধ্যমে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে আরেকটি বড় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) জানায়, চলতি বছরের গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া এই কূপটির খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কূপটির খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

বাপেক্স সূত্র জানায়, বাপেক্সের নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ রিগ বা খননযন্ত্র ব্যবহার করে চলতি বছরের গত ৮ জুলাই সুন্দলপুর (রামপুর) সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা এই অভিযানে কূপটি ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে কূপটির দুটি আলাদা জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।

বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কূপটিতে গ্যাসের পাশাপাশি তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থ রয়েছে কি না, তা আগামী ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ডিএসটি পরীক্ষা শেষে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।

বাপেক্সের ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলা খননকাজ শেষে আজ অগ্নিপ্রজ্বলনের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।’