রাজধানী ঢাকায় ছয়টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে চালু হয়েছে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম। ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে নতুন এ বাস পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
যেসব রুটে চলবে বাস
নতুন ব্যবস্থায় গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন। চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি।
এ ছাড়া ঘাটারচর থেকে ডেমরা এবং ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে বাস পরিচালনা করবে ফোর স্টার লাইন। অন্যদিকে, ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত বাস চালাবে পিএনপি সিটি সার্ভিস।
এক কোম্পানির আওতায় আসছে বাস
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। তবে বাস মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ঢাকাবাসী একসময় মনে করেছিল, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আগে রাজধানীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল। বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলাচলের কারণে চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হতো এবং দুর্ঘটনা ঘটত। পরে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টিতে আনা হয়। এর মধ্যে ছয়টি রুটে আজ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, আগে ছয়টি রুটে ১৮টি আলাদা ব্যানারে বাস চলাচল করত। সেগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা কমবে। বাসচালক ও শ্রমিকেরা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করবেন।
চালুর পরিকল্পনা আরও ২৫টি সার্কুলার রুট
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে ছোট আকারের বাস চক্রাকারে চলাচল করবে। প্রতিটি বাস নির্ধারিত রুটে সারাদিন চলবে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মিনি বাস পাওয়া গেলে বাকি চারটি রুট নিয়েও কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, আপাতত ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩২টি রুটের বাসের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা রং ও নম্বর। বাসের সামনের ডিজিটাল প্লেট দেখে যাত্রীরা বুঝতে পারবেন, কোন বাস কোন রুটে চলাচল করছে।
পরিবহন মালিকদের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় চালকদের নির্ধারিত বেতন দেওয়া হবে। ফলে যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রবণতা কমবে।
আগের উদ্যোগ বন্ধ হয়েছিল লোকসানে
এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল ঢাকা নগর পরিবহন। তবে অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত সংকটের কারণে লোকসানের মুখে একপর্যায়ে উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:







