দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চায় চরম সংকট রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলে মনোনয়ন বাণিজ্যের তথ্য পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংসদ নির্বাচনে একটি আসনে জয়ী হতে প্রার্থীর সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্যও পাওয়া গেছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবারকেন্দ্রিকতা
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন, নীতিনির্ধারণ ও প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া ব্যক্তিনির্ভর এবং পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদে থাকায় নেতৃত্বের পরিবর্তন ও জবাবদিহির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
এতে আরও বলা হয়, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি এক দশক ধরে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ১০টিতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পেয়েছে টিআইবি।
এসব দলের মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা এবং বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি।
এক আসনে নির্বাচনি ব্যয় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত
গবেষণা প্রতিবেদনে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাণিজ্যের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে একটি আসনে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে প্রার্থীর ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকেই এ তথ্য সংগ্রহ করেছে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বিভিন্ন সময়ে দলীয় প্রতিনিধিদের বক্তব্যেই বিষয়টি উঠে এসেছে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







