শনিবার

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩

জুলাই আন্দোলনের আলোচিত ফাইয়াজ এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৬

শেয়ার

জুলাই আন্দোলনের আলোচিত ফাইয়াজ এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেয়ায় গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং হাত বাঁধা অবস্থায় আদালতে নেয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন কিশোর হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ। সেই আলোচিত ফাইয়াজ এবার এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছেন। তিনি বাংলা বিষয় ছাড়া বাকি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ফাইয়াজ। তখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। ১৭ জুলাই থেকেই তিনি আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করেন। আন্দোলনের সময় বন্ধুদের সঙ্গে মিলে সামনের সারিতে থাকা আন্দোলনকারীদের পানি ও খাবার সরবরাহ করার পাশাপাশি স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করতেন তিনি।

আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়। এরপর কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২৭ জুলাই তাকে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত থেকে বের করার সময় ফাইয়াজের দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় প্রিজনভ্যানে তোলার একটি ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতেও রিট করা হয়। পরদিন ২৮ জুলাই ফাইয়াজের জন্মনিবন্ধন ও এসএসসি পরীক্ষার সনদ আদালতে উপস্থাপন করে তার আইনজীবীরা জানান যে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে ঢাকা শিশু আদালত তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ঘোষণা করে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ বাতিল করেন এবং তাকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ২৯ জুলাই হাইকোর্টে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষও স্বীকার করে যে, ফাইয়াজকে রিমান্ডে নেওয়া এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনাটি ভুল ছিল।

জুলাইয়ের সেই বেদনাদায়ক ঘটনা ও কারাবাস ফাইয়াজকে দেশজুড়ে পরিচিত করে তোলে। নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি পুনরায় নিজের পড়াশোনায় মনোযোগী হন। অবশেষে সব বাধা জয় করে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেন আলোচিত এই শিক্ষার্থী।