বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তাঁর জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে তদন্ত সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তর থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দীপের বক্তব্য যাচাই করছে তদন্তকারীরা
পিবিআই জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে শাহরিয়ার দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে অবস্থান করায় ঘটনার রহস্য উদঘাটনে দীপের বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো সরেজমিনে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দীপকে নিয়ে যান। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দীপের দেখা
তাহসিফের মৃত্যুর আগে বাসার নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও হাত মেলানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার ওই ফুটেজে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়।
তাহসিফের পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন। ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাঁদের দেখা হয়। পরে হাত মেলানোর পর তাঁরা দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে দীপ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা হওয়ায় তাঁরা একটি ওয়ার্কশপে যান। মোটরসাইকেল মেরামতের পর বাসায় ফিরে খাবার খান। এরপর সেখান থেকে চলে যান তাঁরা। তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
এর আগে ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছেলেকে হত্যার আশঙ্কা বাবার
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের আশঙ্কা, ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও কেনাকাটা করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি।
তাহসিফের বাবা বলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে আম্মু আমি আসছি লেখা একটি বার্তা পেয়েছিলেন তাঁরা। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। তাঁর ভাষ্য, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।
তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাঁর বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময় আরও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাহসিফ।
আরও পড়ুন:







