কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তাঁর মা তাহমিনা বেগম হত্যা মামলার রায় আগামী ৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন সুমাইয়ার সহপাঠীরা।
শুক্রবার মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে গত ২৭ অক্টোবর। আগামী ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হবে। আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছি। আশা করছি, আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ওই বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মো. মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়েছিল। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি সুমাইয়াকে ধর্ষণ এবং বিষয়টি দেখে ফেলায় তাঁর মাকে হত্যার কথা জানান।
সুমাইয়ার পরিবার এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুমাইয়া সহপাঠীরাও আসামীর সর্বোচ্ছ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুমাইয়ার বড় ভাই আল আমিন বলেন, "আগামী ৫ নভেম্বর মামলার তারিখ রয়েছে। অনেক বড় কিছু পরিবর্তন না হলে মামলার রায় হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এবং অপরাধীর সর্বোচ্ছ শাস্তি দাবি করছি।"
তার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, সুমাইয়া আমাদের বিভাগের সহপাঠী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি। তাঁরা চান, আদালত যেন অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেন। শুধু মামলার রায় দিলেই হবেনা, শাস্তি কার্যকরও দ্রুত করতে হবে৷
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মুনিয়া আফরোজ বলেন, সুমাইয়ার হত্যাকাণ্ড পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসায় আমরা আশাবাদী। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
আরও পড়ুন:







