জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এ সফরকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, কৃষি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এ সফর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
জাপান সফরে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী বলেন, জাপান সফরে ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিসহ বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে। বিরোধী দলের নেতিবাচক সমালোচনার মধ্যেও এ সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সফরের অর্জন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রিজভী।
এদিকে, বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, এ ত্রুটি প্রধানমন্ত্রীর সফর কিংবা দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। তখন বাংলাদেশ সময় ছিল রাত ৭টা ৫৬ মিনিট।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়।
সফরকালে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:







