সম্প্রতি দেশের কয়েকটি প্রথম সারির গণমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচল ও ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদগুলোতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিচালন ও উড্ডয়ন সুরক্ষা (Aviation Safety) সংক্রান্ত একটি কারিগরি বিষয়কে সামগ্রিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা (Aviation Security) ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর ও বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন নয়।
মূলত ভিটিএস সংযোজনের বিষয়টি বিমানবন্দরের পরিচালনগত সুরক্ষা আরও জোরদার করার একটি উদ্যোগ; এটি কোনো নিরাপত্তা (Security) ঘাটতির বিষয় নয়। বেবিচক এ ধরনের অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারসাইড একটি সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এখানে কোনো যানবাহনের অবাধে প্রবেশ বা ইচ্ছামতো চলাচলের সুযোগ নেই। অনুমোদিত যানবাহনগুলো নির্ধারিত সুরক্ষা বিধিবিধান অনুসরণ করে চলাচল করে। বিশেষ করে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফলে এয়ারসাইডে যানবাহন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে বলে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উড্ডয়ন সুরক্ষা (Safety) সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা (Security) সংকট হিসেবে উপস্থাপন করা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ‘বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি’ কিংবা ‘অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা তৈরি করে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কারিগরি বাস্তবতা ও যথাযথ তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও দ্বিমুখী যোগাযোগের যুগে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকে বেবিচক সর্বদা স্বাগত জানায়। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ অত্যন্ত দুঃখজনক।
বেবিচক প্রত্যাশা করে, দেশের গণমাধ্যমগুলো তথ্যের যথার্থতা ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে জনস্বার্থ, রাষ্ট্রীয় কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
অতএব, কয়েকটি প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বেবিচক সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে বিমান চলাচলের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সেফটি (Safety) ও সিকিউরিটি (Security)-এর পার্থক্য, কারিগরি বাস্তবতা এবং যথাযথ তথ্য যাচাইয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের স্বার্থে এই প্রতিবাদলিপি যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







