বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের নেপথ্যে ভারতীয় যুবক!

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৯

শেয়ার

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের নেপথ্যে ভারতীয় যুবক!
ছবি সংগৃহীত

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পেছনে যার নাম জড়িয়েছিল, তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক রহস্যজাল।

পাকিস্তানি নয়, ভারতীয় শেখ শাহাবুদ্দিন

শুরুতে ওই ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক বলে গুঞ্জন উঠলেও, অনুসন্ধানে জানা যায় তিনি পাকিস্তানি নন। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রামের শেখ শাহাবুদ্দিন। জানা গেছে, ২০২৩ সালে মক্কার ওই মসজিদে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনিও সৌদি আরবের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মক্কার একটি মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাদের এই চরম দণ্ড দেয়া হয়। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

জানা যায়, সৌদির এক মসজিদে ওই দুই বাংলাদেশির ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেন ভারতীয় যুবক শাহাবুদ্দিন। এই অপরাধেই তাকে গ্রেপ্তার করে সৌদি প্রশাসন।

অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় যুবক ভিডিও ধারণের পর তা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন এবং তার কথা না শোনায় তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এদিকে পরিবারের দাবি, পরিস্থিতি না বুঝেই এই চক্রের জালে ফেঁসে গিয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। কিন্তু, সৌদি আইনের কঠোর বিধানে পবিত্র স্থান অবমাননার মতো গুরুতর অপরাধে কোনো ছাড় মেলেনি তার। আদালত তাকেও কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

পরিবারের আতঙ্ক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। শাহাবুদ্দিনের বৃদ্ধা মা কোহিনুর বিবির প্রতিটি রাত কাটছে অজানা আতঙ্কে।

মক্কার কারাগার থেকে শাহাবুদ্দিনকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এখন সোচ্চার প্রবাসী ভারতীয় শ্রমিকদের সহায়তায় যুক্ত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে জোর কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

দুই বাংলাদেশির জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার পর, এখন বড় প্রশ্ন, তবে কি একই করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে শাহাবুদ্দিনের জন্যও? নাকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফিরবেন অভিযুক্ত ওই তরুণ?