বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুই প্যাকেজের কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:১১

শেয়ার

মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুই প্যাকেজের কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। প্যাকেজ দুটির আওতায় রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের এই কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ। এলঅ্যান্ডটির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও চুক্তি পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এলঅ্যান্ডটির ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (মেট্রোরেল লাইন-১) সিপি০৯ ও সিপি১০ প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এলঅ্যান্ডটি তাদের নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাসে ৫ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির চুক্তিকে ‘মেজর অর্ডার’ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাস থেকে চুক্তির সুনির্দিষ্ট মূল্য জানা যায় না।

বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়প্রস্তাবের তথ্য অনুযায়ী, সিপি০৯ প্যাকেজের মূল্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং সিপি১০ প্যাকেজের মূল্য ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রস্তাবিত দুই প্যাকেজের মোট মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। ১ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্যাকেজ দুটির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

সিপি০৯ প্যাকেজের আওতায় এলঅ্যান্ডটি তার জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনা। এসব কাজের নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর দায়িত্বও থাকবে তাদের ওপর।

অন্যদিকে সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করবে এলঅ্যান্ডটি। প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর হলো স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত নিরাপত্তাবেষ্টনী, যা ট্রেনের দরজার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খোলে।

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছ থেকে পুনরায় কাজ পাওয়ায় বড় পরিসরের সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা নতুন প্রকল্পে কাজে লাগানো হবে। এছাড়া জাকার্তা মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

জাইকা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ কিলোমিটার। প্রকল্পটির দুটি রুট রয়েছে। একটি বিমানবন্দর রুট, যা কমলাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত যাবে। অন্যটি পূর্বাচল রুট, যা নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

প্রকল্পটিতে মোট ১৯টি স্টেশন ও পিতলগঞ্জে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশটি ভূগর্ভস্থ হবে। পূর্বাচল রুটে ভূগর্ভস্থ ও উড়ালপথ-দুই ধরনের অবকাঠামো থাকবে।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডোর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।