বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:১১

শেয়ার

স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা
ছবি সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঝড়টির প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল ভারতের আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

বুধবার সকালে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে, ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকায় ঝড়টি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এর বাইরের মেঘমালা ইতিমধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে।

বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় সমুদ্রও অত্যন্ত উত্তাল থাকতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়তে পারে। কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। গোদাবরী নদীর মোহনায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৮৯ হাজার মানুষ

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মাছ ধরার ৩০ হাজারের বেশি নৌযান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হতে বলা হয়েছে।

ওডিশার উপকূলেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে প্রতিবেশী ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতাও জোরদার করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করলেও পুরো ঝড় স্থলভাগ অতিক্রম করেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষা করতে হবে।