শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩২

শেয়ার

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার
ছবি সংগৃহীত

চীন-ভারতের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পর্যায়ক্রমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সাত থেকে আট বছর মেয়াদে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিস্তা নদীর পানি সংরক্ষণ, ভাঙন রোধ এবং শুকনো মৌসুমে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নকশা, কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়নের বিষয়ে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগে ভারতের কোনো বিরোধিতা নেই। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনেও তিনি কোনো রাজনীতি দেখছেন না।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। প্রকল্পটি এক বছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। পদ্মা ব্যারেজের মতো তিস্তা প্রকল্পও সাত থেকে আট বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিবছর দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে নিজস্ব অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদীর ১১০ কিলোমিটার তীর রক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণ করা হবে ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। নদী শাসনের মাধ্যমে নতুন জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষি ও শিল্পের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পানি সংরক্ষণ করা এবং শুকনো মৌসুমে ওই অঞ্চলের মানুষের পানির সুবিধা নিশ্চিত করা এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নদীভাঙন থেকে ওই অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করাও এর লক্ষ্য।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে চুক্তি করতে চায় সরকার।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে নতুন করে আশাবাদী বাংলাদেশ।