শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, বাংলাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৩

শেয়ার

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, বাংলাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টি
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা এখন পর্যন্ত দেখা না গেলেও এর দূরবর্তী প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।

বিডব্লিউওটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিন লঘুচাপটি ক্রমাগত শক্তি বাড়াতে পারে। আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপটির কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। এর প্রভাবে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠছে।

সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারির আশঙ্কা

বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সতর্ক সংকেত জারি করা হয়নি। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত সতর্ক সংকেত জারি হতে পারে।

এ অবস্থায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় সিস্টেমটি গড়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিস্টেমটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার লক্ষণ থাকলেও এর চূড়ান্ত শক্তিমাত্রা কতটা হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিডব্লিউওটির ধারণা, ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার পর আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাত হানা বা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ঝুঁকি এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে ২৭ অক্টোবর থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের দূরবর্তী প্রভাবে বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে দেশের ওপর বিস্তৃত একটি বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এর মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টি হলেও এর পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।

এ ছাড়া, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের উপকূল অতিক্রম করার সময় সেখানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।