শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

দেশের ৩৮.৪ শতাংশ শিশু সিসাদূষণের ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:০৬

শেয়ার

দেশের ৩৮.৪ শতাংশ শিশু সিসাদূষণের ঝুঁকিতে
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তে সিসার এ মাত্রা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। তবে শিশুদের জন্য সিসার কোনো মাত্রাকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায় না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বহুমাত্রিক গুচ্ছ জরিপের (এমআইসিএস) তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি বসবাসকারী শিশুদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এসব এলাকার ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি।

জরিপে আরও দেখা গেছে, গর্ভবতী নারীদের ৭ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তেও সিসার মাত্রা একই পর্যায়ে রয়েছে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে সিসা ভ্রূণের কাছে পৌঁছাতে পারে, যা শিশুর বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা বিভাগের শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

বিভাগভিত্তিক হিসাবে শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগের ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি।

এ ছাড়া সিলেটে এ হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ, বরিশালে ২৯ শতাংশ, রংপুরে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

শহরের শিশুরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও গ্রামেও পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৪০ শতাংশ এবং গ্রামের ৩৬ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি।

দূষণের উৎস শনাক্তে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন

গবেষকদের ধারণা, শিল্পবর্জ্য, পুরোনো ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার, দূষিত ধুলা ও মাটি, রং, খেলনা এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের মাধ্যমে শিশুরা সিসার সংস্পর্শে আসতে পারে। তবে কোন উৎস থেকে কতটা দূষণ ঘটছে, তা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) জ্যেষ্ঠ কারিগরি উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সিসা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এটি শিশুদের মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই সিসার উপস্থিতি শনাক্ত, দূষণের উৎস চিহ্নিত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসাদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রক্ত ও পরিবেশগত নমুনা পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং দূষণের উৎসের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সিসাযুক্ত রং ও পণ্যের মানদণ্ড কার্যকর করা এবং শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য শনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধ। সিসার বিষক্রিয়া ঘটার আগেই দূষণের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।