শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

মাদ্রাসায় যৌন অপরাধ নিয়ে আলেমদের নীরবতার সমালোচনায় আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৫

শেয়ার

মাদ্রাসায় যৌন অপরাধ নিয়ে আলেমদের নীরবতার সমালোচনায় আসিফ নজরুল
ছবি সংগৃহীত

মাদ্রাসায় শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বড় একটি অংশকে সোচ্চার হতে দেখা যায় না বলে সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে কঠোর বক্তব্য দেওয়া এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে আলেম সমাজের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের আলেম সমাজে অনেক শ্রদ্ধেয় মানুষ রয়েছেন। হজ করতে গিয়ে, নামাজের সময় কিংবা ইসলামী বয়ান শুনতে গিয়ে তাঁদের কাউকে কাউকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। মাওলানা আহমাদুল্লাহর মতো কিছু আলেমের মানবিক কার্যক্রম দেখেও মুগ্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তবে বৃহত্তর আলেম সমাজের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে আসিফ নজরুল বলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা হয়তো কম, কিন্তু একেবারে নগণ্য নয়। দিনের পর দিন তাঁরা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করে চলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলেম সমাজের একাংশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ নজরুল বলেন, খাবার, পোশাক, বিনোদন ও বাক্‌স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে আলেমরা ফতোয়া দেন। কিছু ক্ষেত্রে মব তৈরি করে মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। অথচ নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে নেতৃস্থানীয় আলেম, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা ও হুজুরদের সোচ্চার হতে দেখা যায় না।

তিনি আরও বলেন, এ দেশে ইসলামবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র রয়েছে। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই আলেম সমাজ এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যেও সম্মানের সঙ্গে টিকে আছে। কিন্তু বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে কেউ কেউ অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন। এমন আচরণের কারণে এসব অপরাধের দায় কোনো না কোনোভাবে তাঁদের ওপরও বর্তাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ নজরুলের ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আলেম সমাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কমে যেতে পারে। এতে বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই আলেম সমাজের নেতৃত্বের ঘুম ভাঙবে এবং মাদ্রাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে তাঁদের কাছ থেকে কঠোর বক্তব্য শোনা যাবে। পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আলেমরা নিজেরাই সোচ্চার হবেন এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবেন।