বুধবার

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

১৩ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৩৮

শেয়ার

১৩ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের
ছবি সংগৃহীত

দেশে ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে এসব সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মতে, সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে বিগত সরকারের ভুলনীতি, রেল ও নৌপথ সংকুচিত করা এবং সড়কনির্ভর যাতায়াতব্যবস্থা দায়ী।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার আগে দেশের প্রধান যাতায়াতমাধ্যম ছিল নৌপথ এবং দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এ দুই মাধ্যমে তখন ৮০ শতাংশ মানুষ যাতায়াত করতেন। সড়কপথে যাতায়াত করতেন ২০ শতাংশ মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পর রেল ও নৌপথ সংকুচিত করে একের পর এক সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে মানুষের যাতায়াত সড়কনির্ভর হয়ে পড়ে। এর প্রভাব সড়ক দুর্ঘটনার ওপরও পড়েছে।

সড়ক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, বেপরোয়া গতি এবং মাদক সেবন করে যানবাহন চালানোকে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন সমিতির মহাসচিব। এ ছাড়া চালকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতা এবং অযোগ্য যানবাহনকে ফিটনেস সনদ দেওয়ার বিষয়টিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও চলাচলকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের মতে, সড়কে ডিভাইডার না থাকা, গাছপালার কারণে বাঁকে দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মহাসড়কের নির্মাণত্রুটিও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

উন্নত গণপরিবহন ও সমন্বিত যাতায়াতব্যবস্থার অভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন ও লেগুনার মতো যানবাহনের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সমিতি। এতে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা দুটিই বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশ

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

সমিতির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ।

এ ছাড়া মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন চলাচল বন্ধ এবং বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।