বৃহস্পতিবার

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক, ১৪৩৩

বাতিল হচ্ছে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প, ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:১৮

শেয়ার

বাতিল হচ্ছে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প, ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ
ছবি সংগৃহীত

গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো অপসারণ করে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে ফেলা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়া হবে।

গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

নির্দেশনা দিয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটি দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা সমীচীন। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সওজের আওতায় আনতে হবে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।

তবে ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বৈঠকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানালেও বিআরটি প্রকল্পের বিষয়ে কিছু জানাননি।

প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে তিন গুণের বেশি

গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল রাজধানী ও গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত বাস চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ২০১২ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে বিআরটি চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের আওতায় বিআরটি লেন, স্টেশন, উড়ালসড়ক, টঙ্গী সেতু ও বাস ডিপোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় নির্মাণকাজের গতি ব্যাহত হয়।

২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে প্রকল্পের ব্যয়। একপর্যায়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায়।

২০২৫ সালে প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার বেশি এবং মেয়াদ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ওই বছরের ২৭ জুলাই একনেক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি।

দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তি

নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর, টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনভোগান্তি ছিল। দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও বিআরটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত এর অবকাঠামো সরিয়ে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।